ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কর্তব্যরত র্যাব সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়। এই হামলায় র্যাবের তিন গোয়েন্দা সদস্য গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
র্যাব-৯–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে র্যাব-৯–এর চার সদস্যের একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রাম অতিক্রম করার সময় এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত শফিক মিয়া এবং তাঁর সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
হামলায় র্যাবের তিনজন সদস্য গুরুতর জখম হন। ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে র্যাবের অন্য একটি দল স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় আহত সদস্যদের উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আটককৃতদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম
অভিযানের পর র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজন পুরুষ এবং তাঁদের একজন নারী সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। নিচে আটককৃতদের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হলো:
আটককৃতদের তালিকা ও উদ্ধারকৃত আলামত
| ক্রমিক | নাম | বয়স | গ্রাম/ঠিকানা | ভূমিকা/মন্তব্য |
| ০১ | আবদুল কাদের | ৬২ | খাগাতুয়া, নবীনগর | অভিযুক্ত হামলাকারী |
| ০২ | মো. রাহিম | ২০ | খাগাতুয়া, নবীনগর | অভিযুক্ত হামলাকারী |
| ০৩ | আবদুর রহমান ওরফে অপু মিয়া | ১৮ | খাগাতুয়া, নবীনগর | অভিযুক্ত হামলাকারী |
| ০৪ | নূর আলম | ১৬ | খাগাতুয়া, নবীনগর | অভিযুক্ত হামলাকারী |
| ০৫ | ছানোয়ারা বেগম | ৪৮ | খাগাতুয়া, নবীনগর | সহযোগী |
| আলামত | সরঞ্জামের ধরণ | পরিমাণ | অবস্থান | উদ্ধারস্থল |
| — | রামদা, দেশীয় অস্ত্র, চাকু, লোহার রড | ৫টি বস্তু | জব্দকৃত | ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা |
পলাতক আসামিদের প্রোফাইল
অভিযান চলাকালীন র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা শফিক ডাকাত এবং তাঁর অন্যতম সহযোগী আবদুল হালিম (৩৪) পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। র্যাবের রেকর্ড অনুযায়ী, পলাতক শফিক ডাকাত ওই এলাকার অত্যন্ত দুর্ধর্ষ অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ডাকাতি, হত্যা, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ডাকাত দলটি এর আগেও নবীনগর থানা পুলিশের ওপর দুইবার সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী গণমাধ্যমকে জানান, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলায় নামীয় এবং অজ্ঞাতপরিচয়সহ মোট ১০-১১ জনকে আসামি করা হতে পারে। বর্তমানে আটককৃতরা র্যাব হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের নবীনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মূল অভিযুক্ত শফিক ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে র্যাবের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
