বিশ্ব সংগীতে এমটিভির বৈপ্লবিক ইতিহাস নিয়ে নতুন চলচ্চিত্র

গত চার দশক ধরে বিশ্বজুড়ে পপ সংস্কৃতির প্রধান পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ‘মিউজিক টেলিভিশন’ বা এমটিভির বর্ণাঢ্য উত্থানের কাহিনী এবার রূপালি পর্দায় আসছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এমটিভি তাদের সংগীত নির্ভর চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করে। বিশ্বব্যাপী সংগীত অনুরাগী এবং পপ সংস্কৃতির অনুসারীদের জন্য সেই রোমাঞ্চকর সূচনালগ্ন এবং সফলতার নেপথ্য গল্পটি এবার একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।

নির্মাণের প্রেক্ষাপট ও পরিচালনার নেপথ্যে

পপ সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ডেডলাইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেইগ মার্কস এবং রব টেনেনবাউম কর্তৃক লিখিত অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘আই ওয়ান্ট মাই এমটিভি: আনসেনসরড স্টোরি অফ দ্য মিউজিক ভিডিও রেভোলিউশন’-এর স্বত্ব কিনেছে প্রযোজনা সংস্থা ‘নিওন’। এই বইটির মূল নির্যাস থেকেই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তৈরি করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন জেরেমি জ্যাসপার। তিনি ইতিপূর্বে ‘শর্টবাস’ (২০০৬), ‘প্যাটি কেকস’ (২০১৭) এবং ‘ওডেসা’ (২০২৫)-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। এই চলচ্চিত্রে মূলত আশির দশকের সেই স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তাদের সংগ্রাম এবং দূরদর্শিতা চিত্রিত হবে, যারা বিশ্বাস করেছিলেন যে সংগীত কেবল শোনার বিষয় নয়, এটি দেখারও বিষয়।

এমটিভির ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার সময়রেখা

সময়কালগুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ও বিশেষ অর্জন
১ অগাস্ট, ১৯৮১যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এমটিভির আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু।
প্রারম্ভিক সংগীত‘দ্য বাগলস’ ব্যান্ডের ‘ভিডিও কিলড দ্য রেডিও স্টার’ গান দিয়ে যাত্রা শুরু।
১০ মার্চ, ১৯৮৩মাইকেল জ্যাকসনের ‘বিলি জিন’ প্রচারের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্য ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীর গানের অন্তর্ভুক্তকরণ।
নব্বইয়ের দশকবিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে ২৫টি ভাষায় সম্প্রচারিত হয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছানো।
কালজয়ী অনুষ্ঠান‘ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’, ‘এমটিভি গ্রাইন্ড’ এবং ‘এমটিভি আনপ্লাগড’-এর বৈশ্বিক সাফল্য।
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫দীর্ঘ ৪৪ বছর পর সংগীত নির্ভর প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

সংগীত ও বিনোদনে এমটিভির প্রভাব

১৯৮১ সালে এমটিভির যাত্রা শুরু হয়েছিল এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। তবে খুব দ্রুতই এটি বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। বিশেষ করে ১৯৮৩ সালে মাইকেল জ্যাকসনের গান প্রচারের সিদ্ধান্তটি ছিল বিশ্ব সংগীতে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মূলধারার টেলিভিশনে অশ্বেতাঙ্গ শিল্পীদের প্রবেশদ্বার উন্মোচিত হয়।

পরবর্তীতে এমটিভি কেবল গান প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি লাইফস্টাইল, রিয়েলিটি শো এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেলসহ প্রায় ২০০টি চ্যানেলের একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সংগীতের ইতিহাসে মিউজিক ভিডিওকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব এমটিভির।

মজার বিষয় হলো, যে ‘ভিডিও কিলড দ্য রেডিও স্টার’ গানটি দিয়ে ১৯৮১ সালে এমটিভির যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেই একই গান প্রচারের মাধ্যমে তারা তাদের সংগীত প্রচারের অধ্যায়টি শেষ করে। প্রযোজনা সংস্থা নিওন আশা করছে, এই চলচ্চিত্রটি কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক উত্থানের গল্প হবে না, বরং এটি গত চার দশকের বৈশ্বিক পপ সংস্কৃতির এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হবে। বর্তমানে সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই মূল চিত্রধারণ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।