গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাড়ি থেকে ‘কথা আছে’ বলে রাতে ডেকে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর লাইজু (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজারসংলগ্ন মোগমটুলি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলের ভবনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফাঁসিতলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত লাইজু কামারদহ নয়াপাড়া (ফেলুকাড়া) গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেন।
লাইজুর পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের শাহিনুর তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় তাঁকে ‘কথা আছে’ বলা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর লাইজু আর বাড়িতে ফেরেননি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগও বাড়তে থাকে। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে মোগমটুলি গ্রামের পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলের ভবনের কাছে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে লাইজুর মৃত্যুর প্রকৃতি ও সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্যে রাতের বেলায় লাইজুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তাঁকে কে বা কারা শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলের কাছে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সম্ভাব্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে, মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত স্থাপনার কাছে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর লাইজুর আর ফিরে না আসা এবং পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে মৃত্যুর পেছনে হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষকে দায়ী করাও সমীচীন নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া যাবে।









