মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকা থেকে মো. আলী হুসেন (৩২) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) মধ্যরাতে বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
Table of Contents
আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় ও আইনি অবস্থান
বিজিবি ও স্থানীয় থানা পুলিশের দাপ্তরিক নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আটককৃত আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটক মো. আলী হুসেন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার অন্তর্গত দক্ষিণ কেফটি গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে। বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের পর বিজিবির হাতে আটক হওয়ার সময় তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সম্পর্কিত নথিপত্র এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের জন্য ব্যবহৃত কিছু আলামত জব্দ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিজিবির বিশেষ অভিযান ও আটকের বিবরণ
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন সূত্র থেকে জানা যায়, ভারতীয় চোরাকারবারি চক্রের কয়েকজন সদস্য অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ পান গোয়েন্দারা। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি চৌকস দল বড়লেখা উপজেলার বিওসিটিলা বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকায় অবস্থান নেয় এবং বিশেষ নজরদারি শুরু করে।
অভিযান পরিচালনাকালে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৩৮৯/এম থেকে বাংলাদেশের প্রায় তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পর্যটন এলাকা মাধবকুণ্ড থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. আলী হুসেনকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় তার অন্য সহযোগীরা সুকৌশলে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির জবানবন্দি
আটক করার পর মো. আলী হুসেনকে বিওসিটিলা বিওপিতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিজিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে একই সাথে তিনি দাবি করেন যে, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সংক্রান্ত ব্যবসার জরুরি প্রয়োজনে তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। বিজিবি তার এই দাবির সত্যতা এবং বাংলাদেশে তার স্থানীয় সহযোগীদের নেটওয়ার্কের বিষয়ে আরও তথ্য উদঘাটনে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
থানা পুলিশে হস্তান্তর ও আদালতে সোপর্দ
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান এই অভিযান ও সফল আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আটক ভারতীয় নাগরিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং তিনি সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আটক মো. আলী হুসেনকে বড়লেখা থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির সোপর্দ করা আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলের দিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে অন্য কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে।
