ফেনী মহাসড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত

ফেনীর সদর উপজেলার খাইয়ারা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গ্যাসবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ভোজনবাড়ী রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি গ্যাসবোঝাই ট্রাকের চাকা মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় পাংচার হয়ে গেলে সেটি রাস্তার পাশে থামানো হয়। ট্রাকটির চালক ও সহকারী চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন মানুষ সেখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হঠাৎ ঢাকামুখী একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকের পাশে অবস্থানরত ব্যক্তিরা গুরুতরভাবে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (৪০) নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আহতদের বর্তমান অবস্থা

নামবয়সবর্তমান অবস্থা
আবদুর শুক্কুর৫২চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
বেলাল হোসেন৩৭চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
আরিফুল ইসলাম৩২চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
আরিফ২০চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
মো. রাসেল৩২চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
মো. মিজান৩৫ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
সাগর২২ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
জুয়েল১৬প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হয়ে দেখতে পান যে একটি গ্যাসবোঝাই ট্রাকের চাকা পরিবর্তনের কাজ চলছিল। ট্রাকটির পাশে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ওই স্থানে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দুটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অজ্ঞাত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন কাজ করছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্তও শুরু হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে বিকল বা থেমে থাকা যানবাহনের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক সংকেত, প্রতিফলক চিহ্ন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতের বেলায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত গতি, অসতর্ক চালনা এবং সময়মতো সতর্কবার্তা না পাওয়াও এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য স্থানীয়রা প্রার্থনা করছেন।