জাতীয় নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির মধ্যে বাংলাদেশের ট্রেজারি বিল (টি-বিল) সুদে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। ব্যাংকসমূহ অতিরিক্ত তরল তহবিলকে ঝুঁকি-মুক্ত সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী থাকায়, ব্যক্তিগত খাতের ঋণ চাহিদা কম থাকায় এই প্রবণতা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমানো এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলাম ফলাফলে দেখা গেছে, সব মেয়াদে টি-বিলের কাট-অফ সুদ সামান্য কমেছে। ৯১ দিনের টি-বিলের সুদ ১০.৪০% থেকে কমে ১০.২৪% হয়েছে। ১৮২ দিনের ইনস্ট্রুমেন্টের সুদ ১০.৩৪% থেকে ১০.২৮% পর্যন্ত নেমেছে। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ৩৬৪ দিনের টি-বিলে, যা ১০.৪৯% থেকে ১০.৩৪% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
সরকার এই নিলামের মাধ্যমে মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, যার একটি অংশ জাতীয় বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যয় হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুদের এই সামান্য পতন ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিতে শক্তিশালী চাহিদার প্রতিফলন, যা নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত খাতের ঋণগ্রহণের অবসন্নতার কারণে প্রভাবিত হয়েছে।
নিলামের সংক্ষিপ্ত ফলাফল নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| টি-বিল মেয়াদ | পূর্ববর্তী সুদ (%) | বর্তমান সুদ (%) | পরিবর্তন (bps) | তহবিল উত্তোলন (ট্রিলিয়ন টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ৯১ দিন | ১০.৪০ | ১০.২৪ | -১৬ | ২৫ |
| ১৮২ দিন | ১০.৩৪ | ১০.২৮ | -৬ | ২৫ |
| ৩৬৪ দিন | ১০.৪৯ | ১০.৩৪ | -১৫ | ২৫ |
একজন উচ্চপদস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তহবিল নিরাপদ ও তরলভাবে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। টি-বিল নিরাপদ এবং সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে কার্যকর, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত খাতের ঋণ চাহিদা কম থাকায়।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান তরল তহবিলের প্রাচুর্য সাম্প্রতিক সময়ে টি-বিল সুদকে নিম্নস্তরে রাখতে সহায়তা করবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নগদ নীতিমালা, যেমন রেপো ও রিভার্স রেপো লেনদেন, এবং নির্বাচনী সময়ে নীতিগত সংকেতগুলোও সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সুদে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদি টি-বিলের সুদ পতন স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি এবং কম ঝুঁকি প্রিমিয়ামের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করছে। এটি ব্যাংকসহ ঝুঁকি সংবেদনশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি পূর্বনির্ধারিত বিনিয়োগ পথ নিশ্চিত করে। সরকারের ঘাটতি পূরণে টি-বিলের নির্ভরতা এবং ব্যাংকগুলোর জন্য ঝুঁকি-মুক্ত বিনিয়োগ চ্যানেল হিসেবে এর গুরুত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অপ্রতিদ্বন্দ্বিত।
