গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর শহিদুল নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে মুকসুদপুর থানা পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) বিকালে পার্শ্ববর্তী রাজৈর উপজেলার পান্থাপাড়া এলাকার একটি রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিখোঁজের বিবরণ
নিহত শহিদুল মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ছালাম মাতুব্বরের ছেলে। পারিবারিক ও পুলিশি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে শহিদুল অটোরিকশা চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
নিখোঁজ ও জিডি: শহিদুল বাড়ি ফিরে না আসায় সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাঁর পরিবার। কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৭ জুন মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
ছিনতাইয়ের অভিযোগ: নিহত শহিদুলের ভাই শাহিদুল মাতুব্বর জানান, পরবর্তীতে তাঁরা খবর পান যে, নুর হোসেন ও পলাশ তাঁর ভাইকে নিয়ে গেছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই শহিদুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবার দাবি করে।
তদন্ত, গ্রেফতার ও মরদেহ উদ্ধার
শহিদুলের নিখোঁজের জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে মুকসুদপুর থানা-পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কমলাপুর গ্রামের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
১. নুর হোসেন: কমলাপুর গ্রামের আবু শেখের ছেলে।
২. পলাশ শেখ: একই গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে।
মুকসুদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকালে পার্শ্ববর্তী রাজৈর উপজেলার পান্থাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানকার একটি রাস্তার পাশের ঝোপের ভেতর থেকে শহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের বর্তমান আইনি খতিয়ান:
| বিষয় | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
| ভিকটিমের পরিচয় | শহিদুল (পিতা: মৃত আব্দুল ছালাম মাতুব্বর), গ্রাম: কমলাপুর, মুকসুদপুর। |
| গ্রেফতারকৃত আসামী | নুর হোসেন (পিতা: আবু শেখ) এবং পলাশ শেখ (পিতা: কাশেম শেখ)। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। |
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাজৈর উপজেলার পান্থাপাড়া এলাকা থেকে ঝোপের ভেতর লুকিয়ে রাখা মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
