নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি আবাসিক বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মদনপুর এলাকার চাঁনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বাসাটিতে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর সময় জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হন।
দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), সিয়াম (১৯), মিম (১৩) এবং হযরত আলী (৮)। তাদের মধ্যে মান্নান, সুলতানা, সিয়াম ও মিম একই পরিবারের সদস্য। দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন জানান, সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। রান্নার সময় চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় দগ্ধদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, সুলতানার শরীরের প্রায় নব্বই শতাংশ, সিয়ামের সাতাত্তর শতাংশ, মিমের একচল্লিশ শতাংশ, মান্নানের ত্রিশ শতাংশ এবং হযরত আলীর আট শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, আর হযরত আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, দগ্ধদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিচে দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা পরিস্থিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| নাম | বয়স | দগ্ধের হার | পারিবারিক সম্পর্ক | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| মান্নান | ৫০ | ৩০ শতাংশ | পরিবার সদস্য | ভর্তি |
| সুলতানা | ৩৫ | ৯০ শতাংশ | পরিবার সদস্য | ভর্তি |
| সিয়াম | ১৯ | ৭৭ শতাংশ | পরিবার সদস্য | ভর্তি |
| মিম | ১৩ | ৪১ শতাংশ | পরিবার সদস্য | ভর্তি |
| হযরত আলী | ৮ | ৮ শতাংশ | শিশু | পর্যবেক্ষণে |
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাসাটিতে গ্যাস লিকেজের সঠিক কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দগ্ধদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।