খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৩ পিএম

প্রায় দুই ঘণ্টার অচলাবস্থার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ডেস্কটপ সেবা। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে ব্যবহারকারীরা ধীরে ধীরে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে এবং স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে সক্ষম হন।
এর আগে একই দিন দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে হঠাৎ করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বহু ব্যবহারকারী ফেসবুকের ওয়েব সংস্করণে প্রবেশ করতে সমস্যার মুখে পড়েন। অনেকেই জানান, ব্রাউজারের মাধ্যমে লগ-ইন করা যাচ্ছিল না। আবার কারও ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট লোড হতে অস্বাভাবিক সময় নিচ্ছিল কিংবা নিউজফিড হালনাগাদ হচ্ছিল না। ফলে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডাউন ডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দেড়টার পর থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যা একটি বিস্তৃত প্রযুক্তিগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মোবাইল অ্যাপে তুলনামূলকভাবে কম সমস্যা দেখা গেলেও ওয়েব সংস্করণে প্রবেশ, মেসেঞ্জার ব্যবহার, বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখা এবং বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটে। অনেকেই পূর্বে লোড হওয়া পেজ দেখতে পারলেও নতুন কোনো কনটেন্ট দেখা বা অ্যাকাউন্ট রিফ্রেশ করতে পারছিলেন না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বৈশ্বিক সেবা বিঘ্ন সাধারণত সার্ভারজনিত ত্রুটি, সফটওয়্যার আপডেট-সংক্রান্ত সমস্যা অথবা অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে ঘটতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ব্যবহারকারীরা আবারও ডেস্কটপের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন। ফলে দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
তবে এই সেবা বিঘ্নের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিগত সমস্যার উৎস বা কতসংখ্যক ব্যবহারকারী এতে প্রভাবিত হয়েছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যবসা, সংবাদ, শিক্ষা এবং বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমে ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অল্প সময়ের জন্যও এমন প্রযুক্তিগত বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য