খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের গতি ও উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনেই ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসার হার বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ। অঙ্কের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে:
চলতি মাসের ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অথচ সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
চলতি মাসে প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবাহ মাসজুড়েই অব্যাহত রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশের banking চ্যানেলে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে প্রবাসীরা রেকর্ড ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর এই আগ্রহ দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের মধ্যে হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম পরিহার করে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে। বিশেষ করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা ধরনের উৎসাহমূলক উদ্যোগ, ব্যাংকিং সেবার আধুনিকায়ন ও সরকারি প্রণোদনার কার্যকর ভূমিকার কারণেই প্রবাসী আয়ের এই ধারা বজায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকও প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে ডলারের আকর্ষণীয় রেট দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি জোগাবে। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ডলার বাজারে যে অস্থিরতা চলছিল, এই রেমিট্যান্সের প্রবাহ তা কাটাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে বা গ্রস রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে সরকারের জরুরি আমদানি ব্যয় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধারা বজায় থাকলে বছরের শেষ নাগাদ প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য