খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ এএম

বগুড়ার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে ও গণশুনানির ভিত্তিতে এই নামগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সভার সিদ্ধান্ত রেজল্যুশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে এবং তাঁর পৈতৃক বাড়ির নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ করার অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিলে পরবর্তীতে নামগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সমন্বয় সভায় অনুমোদিত এই প্রস্তাবটি অতি দ্রুত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
বিতর্ক এড়াতে এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী যে নতুন নামগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন: প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে রাখা এই ইউনিয়নটির নতুন নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বেতগাড়ী ইউনিয়ন’।
‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন: প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের নামে রাখা এই ইউনিয়নটির নতুন নাম হয়েছে ‘জগন্নাথপুর ইউনিয়ন’।
‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন: প্রতিমন্ত্রীর ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামে রাখা এই ইউনিয়নটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘রহবল ইউনিয়ন’।
‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন: প্রশাসনিক পুনর্গঠনে গঠিত এই চতুর্থ ইউনিয়নটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকায় এটি অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই নামকরণের পেছনের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। চলতি বছরের ১৪ জুন একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ওই এলাকায় মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই দেখা যায়, ‘মীরবাড়ি’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম এবং অন্য দুটি নাম প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
সরকারি প্রশাসনিক কাঠামোতে এভাবে নিজের পরিবার ও সন্তানদের নাম জুড়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক হাস্যরস ও তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রজ্ঞাপন জারির পরদিনই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকারের নজরে এনে এই স্বজনপ্রীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: যদিও সেই সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পুরো ঘটনাটিকে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ বলে দাবি করেছিলেন, তবে তীব্র বিতর্কের মুখে বিষয়টি নিয়ে খোদ সরকারপ্রধানও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বগুড়ার এই ইউনিয়নগুলোর নাম দ্রুত বদলে ফেলার জন্য সরাসরি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার আলোকেই জেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আজ নামগুলো চূড়ান্তভাবে পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করল।
মন্তব্য