দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকা এক সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা ১০টি অঞ্চল হলো—রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। এসব এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ঝড়ো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের সতর্ক সংকেত নৌযান চলাচল এবং নদীপথে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে, যাতে সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।
নিচে সতর্কবার্তায় উল্লেখিত অঞ্চলের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | অঞ্চল/জেলা | সম্ভাব্য বাতাসের গতি | আবহাওয়ার অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | রংপুর | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ২ | দিনাজপুর | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৩ | বগুড়া | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৪ | টাঙ্গাইল | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৫ | ময়মনসিংহ | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৬ | কুমিল্লা | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৭ | নোয়াখালী | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৮ | চট্টগ্রাম | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ৯ | কক্সবাজার | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
| ১০ | সিলেট | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি |
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই সতর্কবার্তায় মূলত দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।
নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত সাধারণত প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সম্ভাব্য ঝড়ো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ছোট নৌযান ও ফেরি চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সতর্কতা দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।