সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে বিদ্যুতের সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলতে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যদিও ধানগড়া বাজারসহ পৌর এলাকার কিছু অংশে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন উপজেলার লক্ষীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকরা। বিদ্যুৎনির্ভর তাঁতকলগুলো ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের কাছে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছাসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় একদিকে যেমন অর্ডার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের নিয়মিত কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। সেই সময়ও একটানা বিদ্যুৎ থাকে না; ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা—সব ক্ষেত্রেই চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাঁতকল মালিকদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁতকল কার্যত অচল হয়ে থাকে। এতে উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে এবং বাজারের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক কাজ করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও উৎপাদন না হওয়ায় তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের আলোচনা হয়। পরে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভূঁইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিজামুল ইসলাম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, যাতে ঘনঘন লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উৎপাদন কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।









