দেশের প্রধান গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের আওতাধীন বিস্তৃত এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক স্বল্পচাপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা তরল অবস্থায় থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার পর যে সরবরাহ জাতীয় নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়, সেই সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প এবং সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহন—সব ধরনের গ্রাহকই সাময়িকভাবে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস না পাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। গত সোমবার সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্যাস সরবরাহে এই ঘাটতির প্রভাব সোমবার রাত থেকে শুরু হয়েছে এবং তা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে রাজধানীসহ তিতাস গ্যাসের বিস্তৃত অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম চাপে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে। ফলে রান্না, শিল্প উৎপাদন এবং যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের পর সরবরাহ কমে যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। এর ফলে জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় সাময়িক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহে এমন অস্থিরতা দেখা দিলে শিল্প উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাসনির্ভর, সেখানে উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে ব্যাঘাত এবং যানবাহন চলাচলে ধীরগতির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
বিষয়
বিবরণ
গ্যাস স্বল্পচাপের কারণ
আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের পর সরবরাহ হ্রাস
প্রভাবিত এলাকা
তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিস্তৃত অঞ্চল, রাজধানীসহ
প্রভাবিত খাত
আবাসিক ব্যবহার, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, শিল্প উৎপাদন, যানবাহনের জ্বালানি
সময়কাল
সোমবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সম্ভাব্য
সম্ভাব্য প্রভাব
স্বল্পচাপ, রান্নায় বিঘ্ন, উৎপাদন হ্রাস, যানবাহন চলাচলে ধীরগতি
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সরবরাহ স্থিতিশীল করার উদ্যোগ
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে এই সাময়িক সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা শিগগিরই পুনরায় কার্যকর হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে এই অস্থায়ী পরিস্থিতি সহজভাবে মোকাবিলা করা যায়।
মন্তব্য