জামালপুর সদর উপজেলায় মহাসড়কের পাশে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এ কে এম সামিউল হক (২৭) নামে এক সহকারী জজ নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাইভেট কারটির চালক মো. ইদ্রিস আলী (৪৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত এ কে এম সামিউল হক জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে কর্মজীবনের শুরুতেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বাবা এ কে এম ফজলুল হক নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার সাবেক সচিব।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে ঢাকার লালমাটিয়ার বাসা থেকে প্রাইভেট কারে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন সামিউল হক। গাড়িটি ভোরের দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা বাজার এলাকায় পৌঁছায়। ওই সময় মহাসড়কের পাশে একটি রডবোঝাই ট্রাক বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকে থাকা লম্বা রডগুলোর কয়েকটি প্রাইভেট কারের সামনের অংশ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যায়। একটি রড সামিউল হকের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
গুরুতর আহত হন গাড়িচালক মো. ইদ্রিস আলী। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার দানেশ হাওলাদারের ছেলে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাকটি বিকল অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরে বিচারককে বহনকারী প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দিলে রডগুলো গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে সামিউল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশ আহত চালকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি তিনি প্রথমে দেখতে পাননি। পরে ট্রাকটি চোখে পড়লেও তখন গাড়িটি এতটাই কাছাকাছি চলে গিয়েছিল যে, সেটি নিয়ন্ত্রণে এনে থামানো সম্ভব হয়নি। ফলে সরাসরি ট্রাকটির পেছনে গিয়ে ধাক্কা লাগে।
দুর্ঘটনাটি মহাসড়কের পাশে বিকল ভারী যানবাহন রেখে যাওয়ার ঝুঁকিও সামনে এনেছে। রাত ও ভোরের মতো কম দৃশ্যমানতার সময়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক বা অন্য কোনো যানবাহন যথাসময়ে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে রডের মতো দীর্ঘ ও শক্ত ধাতব সামগ্রী বহনকারী ট্রাক পেছন থেকে সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল যানবাহনের পেছনে ও সামনে সতর্কতামূলক সংকেত, প্রতিফলকযুক্ত চিহ্ন এবং দৃশ্যমান সতর্ক বাতি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদেরও বিশেষ করে রাত ও ভোরে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সামনে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহত সহকারী জজের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।









