খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে একদল দুর্বৃত্ত। তবে হামলাকারীদের ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওই পরিবারের এক নারী সদস্যের কোমরে বিদ্ধ হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার করিমনগর এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নারী শিমুল (৩০) করিমনগর এলাকার বাসিন্দা মুকুলের স্ত্রী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল করিমনগর এলাকায় শিমুলদের বাড়িতে যায়। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য। দলটি সেখানে শিমুলের ছেলে হৃদয়কে খুঁজতে থাকে। তবে ওই সময় হৃদয় বাড়িতে ছিলেন না।
হৃদয়কে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা তার বাবা মুকুলের সঙ্গে কথা বলে এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মুকুলকে লক্ষ্য করে ছোড়া সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা শিমুলের কোমরে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক তৈরি হয়।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় শিমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর করিমনগর এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। দিনের বেলায় একটি বসতবাড়ির কাছে দলবদ্ধভাবে এসে অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিমুলের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তাকে না পেয়ে ভয় দেখানো বা চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের পরিচয়, ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনাস্থলে তাদের আসার কারণ এবং হামলার পর কোন পথে তারা পালিয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হৃদয়ের সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো পূর্ববিরোধ বা দ্বন্দ্ব ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয়কে খুঁজতেই ওই ব্যক্তিরা বাড়িতে এসেছিল। তার অবস্থান জানতে চাওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মুকুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সৌভাগ্যক্রমে মুকুল গুলিবিদ্ধ না হলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে তার স্ত্রী শিমুল আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এসে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।









