খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং বড় বড় শিল্প দুর্ঘটনা ও বীমা ক্ষতির পরিমাণ বাড়লেও এশিয়ার জ্বালানি বীমা বাজার এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির এই পরিবেশ সত্ত্বেও এখানে বীমা প্রিমিয়াম বা খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণ হলো অতিরিক্ত বীমা সক্ষমতা, কম ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস এবং তীব্র প্রতিযোগিতা।
আন্তর্জাতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান উইলিস (Willis Towers Watson) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এশিয়ার তেল ও গ্যাস উৎপাদন খাতে বড় কোনো উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা বা বীমা দাবি ঘটেনি। ফলে বৈশ্বিক বীমা বাজারে এশিয়া এখনো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে বীমা কোম্পানিগুলো এখনো এশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির বাজার হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে যেসব তেল ও গ্যাস অপারেটরের নিরাপত্তা মান ভালো এবং দাবি ইতিহাস কম, তারা এখন তুলনামূলকভাবে কম প্রিমিয়ামে বেশি কভারেজ পাচ্ছে।
Table of Contents
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| ২০২৫ সালে বড় ক্ষতি | উল্লেখযোগ্য নয় |
| বাজার পরিস্থিতি | ক্রেতাদের অনুকূলে |
| প্রিমিয়াম প্রবণতা | ধীরে ধীরে নিম্নমুখী |
| বীমা সক্ষমতা | পর্যাপ্ত ও অতিরিক্ত |
| প্রধান ঝুঁকি | ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা |
| ২০২৬ পূর্বাভাস | নরম বাজার অব্যাহত |
বিশেষ করে রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে বীমা বাজার এখনো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতার কারণে প্রিমিয়াম কমছে, যদিও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় এই হ্রাসের গতি কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে।
তবে বীমা কোম্পানিগুলো এখন কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে যেসব সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে (US) অবস্থিত বা যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে আন্ডাররাইটিং কঠোর করা হচ্ছে।
বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ঝুঁকির জন্য বীমা সক্ষমতা ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং নতুন নতুন বীমা কোম্পানি ও ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিকভাবে রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৬ সালের শুরুতেও আংশিকভাবে অব্যাহত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এখনো প্রিমিয়াম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—
এছাড়া Lloyd’s of London-এর মতো আন্তর্জাতিক বীমা প্ল্যাটফর্ম নতুন সক্ষমতা যুক্ত করছে, ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে এবং ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি পরিবহন রুটে উত্তেজনা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত বড় কোনো সরাসরি বীমা ক্ষতি ঘটেনি। উইলিসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাজারে যে অতিরিক্ত মূলধন রয়েছে তা এখনো পুরোপুরি ব্যবহৃত হয়নি, ফলে প্রিমিয়াম বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হয়নি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে S&P Global জানিয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বীমা খাত জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের কারণে পরোক্ষ চাপে রয়েছে, কারণ এই অঞ্চল মূলত আমদানিনির্ভর।
তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) বিঘ্ন কিছুটা কমে আসে, তাহলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি গড়ে প্রায় ৯২ ডলার এবং পুরো বছরে প্রায় ৮০ ডলারের আশেপাশে থাকতে পারে।
বর্তমানে এশিয়ার জ্বালানি বীমা বাজার এক বিরল ভারসাম্যের অবস্থায় রয়েছে—যেখানে একদিকে ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা প্রিমিয়ামকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বা বড় কোনো শিল্প দুর্ঘটনা ঘটলে এই “soft insurance market” দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে কঠোর বাজারে রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য