ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও সবজিভর্তি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন সবজি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উপজেলার পানিউন্দা ইউনিয়নের বড়চর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ নবীগঞ্জ উপজেলার কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে। তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ছাড়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অপর দুজন হলেন ইনাতগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে ময়না মিয়া এবং দক্ষিণগ্রাম ইনাতগঞ্জের বাসিন্দা কাশেম মিয়া।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে একটি পিকআপে করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী কাঁচামাল কেনার জন্য দিগম্বর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পিকআপটি মহাসড়কের বড়চর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা থেকে সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপের ওপর থাকা সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ ছিটকে সরাসরি মহাসড়কে পড়ে যান। নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি তার ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পিকআপের চালকসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না মিয়া ও কাশেম মিয়া মারা যান। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই এবং দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও পিকআপটি জব্দ করে শেরপুর হাইওয়ে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে আরও দুজন আহত ব্যক্তি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য