আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে নিজ এলাকা থেকেই তাকে পুলিশ আটক করে। তিনি কেবল একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিই নন, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ পরিচিত মুখ এবং বর্তমানে বড়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালতের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার মূল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পরই পুলিশ দলবল নিয়ে বড়াইল গ্রামে অভিযান চালায় এবং তাকে নিজ এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন সংঘাতময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে তার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন তাকে আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা জারির পর পুলিশ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তাকে আটক করতে সমর্থ হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সোমবার সকালে গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালত প্রাঙ্গণে তাকে হাজির করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে। এই গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নানা আলোচনা এবং গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য