ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য” সিরিজের অংশ হিসেবে নতুন ১০ টাকার নোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের জন্য বিতরণ করা হচ্ছে এবং দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ঘোষণা সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সিরিজের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১,০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট প্রকাশিত হয়েছে। সময়ক্রমে সমস্ত মুদ্রার মান পুনঃনকশা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রচলনে আনা হবে, যা বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
নতুন ১০ টাকার নোটের জারি ও বিতরণ
নতুন নোটে বাংলাদেশের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুরের স্বাক্ষর থাকছে। প্রাথমিকভাবে এটি ঢাকা মহানগরের মতিঝিল শাখা থেকে বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও ব্যাংক ও সাধারণ জনগণের কাছে নোট সরবরাহ করা শুরু হবে।
নতুন ১০ টাকার নোটের প্রধান বৈশিষ্ট্য
নিম্নের টেবিলে নতুন নোটের ডিজাইন এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| মাত্রা | ১২৩ মিমি × ৬০ মিমি |
| সামনের ডিজাইন | বাম পাশে: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম; কেন্দ্র: জাতীয় ফুল শাপলা |
| পেছনের ডিজাইন | গ্রাফিটি-২০২৪ শিল্পকর্মের ছবি |
| প্রধান রঙ | গোলাপি |
| নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য | বেঙ্গল টাইগার ওয়াটারমার্ক, উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ ‘১০’, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম, ২ মিমি সিকিউরিটি থ্রেড, সি-থ্রু ইমেজ, মাইক্রোপ্রিন্টেড ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’, রঙ পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা থ্রেড |
নোটের রঙ পরিবর্তনশীল থ্রেড আলোতে ধরলে “১০ টাকা” প্রদর্শন করে এবং নোটের দিকে ঝোঁকালে লাল থেকে সবুজে রঙ পরিবর্তন হয়। এতে নকল প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রচলন ও সংগ্রাহকদের জন্য তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগজ ও ধাতব মুদ্রা নতুন নোটের পাশাপাশি বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য মিরপুরে ব্যাংকের মুদ্রা জাদুঘরে একটি নমুনা ১০ টাকার নোট পাওয়া যাবে।
নতুন নোটের উন্মোচন বাংলাদেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সাধারণ জনগণ ও সংগ্রাহকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে, একই সঙ্গে দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্যিক ঐতিহ্য উদযাপন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন নোটের মাধ্যমে দেশের মুদ্রার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও নান্দনিকতা উন্নত করার লক্ষ্য পূরণে অগ্রসর হচ্ছে।
