চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম দশ দিনে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের প্রবাসী আয়। দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ৯৫ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা, প্রণোদনা সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ। এসব কারণে প্রবাসী আয় প্রবাহ আগের তুলনায় আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
গত এক বছরে মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রবাসী আয় প্রবাহে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ প্রবাহ রেকর্ড করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় মাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিচে সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবাসী আয় প্রবাহের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| মাস | প্রবাসী আয় (কোটি মার্কিন ডলার) |
|---|---|
| জুন (১–১০ দিন) | ১২০.৩১ |
| মে | ৩৪২.৫০ |
| এপ্রিল | ৩১২.৭৩ |
| মার্চ | ৩৭৫.৫০ |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০২.০৭ |
| জানুয়ারি | ৩১৭.০৯ |
| ডিসেম্বর | ৩২২.৬৭ |
| নভেম্বর | ২৮৮.৯৫ |
| অক্টোবর | ২৫৬.৩৪ |
| সেপ্টেম্বর | ২৬৮.৫৮ |
| আগস্ট | ২৪২.১৮ |
| জুলাই | ২৪৭.৮০ |
এই তথ্য থেকে দেখা যায়, মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় সাধারণত ২৪০ থেকে ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। মার্চ ও মে মাসের তুলনামূলক উচ্চ প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সামগ্রিকভাবে, জুন মাসের প্রথম দশ দিনের শক্তিশালী প্রবাসী আয় প্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকেও আরও সুসংহত করছে।
