চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন করে ওঠা এই অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বেলা পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতা-কর্মীরা সেখানে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, ওই ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় ডিসি আমিরুল ইসলাম এনসিপির নারী কর্মী নুসরাত আক্তারকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তার গায়ে হাত দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘটনাটিকে অপ্রীতিকর আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান।
এর আগে রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় একই এলাকায় এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করেন। ওই সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতি মুছে ফেলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তীতে সোমবার সকালে সিএমপি নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দুপুরে এনসিপি নেতা-কর্মীরা পুনরায় টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হয়ে গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নেন বলে জানা যায়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও টানাটানির ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপি নেতারা দাবি করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন এবং পুলিশ বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, তাদের কর্মীরা গ্রাফিতি আঁকার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ডিসি আমিরুল ইসলাম তাদের কর্মী নুসরাত আক্তারের গায়ে হাত দেন।
অন্যদিকে ডিসি আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে গায়ে হাত দেননি। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল কর্ডন করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পরে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এ ঘটনার পাশাপাশি ডিসি আমিরুল ইসলাম পূর্ববর্তী একটি অভিযোগ নিয়েও আলোচনায় ছিলেন। গত বছরের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের খুলশী থানায় যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত এবং ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরকে। তবে সেই তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সর্বশেষ এই ঘটনার পর এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো নতুন ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি।
