গোপালগঞ্জে একটি বেইলি ব্রিজ অতিরিক্ত ওজন বহন করতে না পেরে সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। ভারী বালুবাহী একটি দশ চাকার ট্রাক ব্রিজ অতিক্রমের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই কাঠামো ভেঙে পড়ে ট্রাকসহ একটি ইজিবাইক ও একটি সাইকেল পাশের খালে পড়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর জেলার প্রধান সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।
রবিবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে শহরের পাচুড়িয়া এলাকার কাছে অবস্থিত বেইলি ব্রিজটির ওপর দিয়ে ঘোনাপাড়া অভিমুখে একটি বালুভর্তি ট্রাক অতিক্রম করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই কাঠামোটি বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। ব্রিজের ভাঙা অংশের সঙ্গে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের খালে পড়ে যায়। একই সময়ে পাশে চলাচলরত একটি ইজিবাইক ও একটি সাইকেলও দুর্ঘটনায় পড়ে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তারা আহত ট্রাকচালক, সহকারী, ইজিবাইকচালকসহ মোট চারজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে দুর্ঘটনার পর খালে পড়ে থাকা ট্রাকটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল না এবং ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও ছিল না। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক নিয়ম ভেঙে ব্রিজ পার হওয়ার কারণেই এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। এখন ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে সময় ও খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | পাচুড়িয়া, গোপালগঞ্জ জেলা |
| সময় | রবিবার, সকাল আটটা |
| দুর্ঘটনার কারণ | অতিরিক্ত ভারী বালুবাহী ট্রাকের চাপ |
| ক্ষয়ক্ষতি | বেইলি ব্রিজ ধসে ট্রাক, ইজিবাইক ও সাইকেল খালে পতন |
| আহত | চারজন |
| যান চলাচল | প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ |
ঘটনার পর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পরিস্থিতি জানার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য এলাকায় একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী চলাচল স্বাভাবিক করতে সংস্কার ও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ওই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি বেইলি ব্রিজ স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থায়ী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়। সম্প্রতি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে। তারা মনে করছেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
