খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৮:২০ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বন্যার প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোর সুজিত দাসের মরদেহ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন জলদাসপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
নিহত সুজিত দাস কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুফান দাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতোই সে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিল। কিন্তু আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার জীবন থেমে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পুরো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাতামুহুরী নদীর পানি উপচে সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে প্রবাহিত হচ্ছিল। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সুজিত আরও দুজন সঙ্গীর সঙ্গে ওই সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। একপর্যায়ে পা পিছলে পানিতে পড়ে যায় সে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে খবর দিলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু পানির তীব্র স্রোত, ঘোলা পানি এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অভিযান চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে উদ্ধারকাজ জোরদার করতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষায়িত ডুবুরি দল আনা হয়। তাদের সহায়তায় রোববার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে সুজিতের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তবে স্রোতের তীব্রতা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে। প্রায় এক দিন পর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান হলেও তাদের শোক আরও গভীর হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের নর্থ জোনের ইনচার্জ দিদারুল হক জানান, ঘটনাস্থলে পানির প্রবাহ অত্যন্ত শক্তিশালী থাকায় উদ্ধারকাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার সময় নদী-খালসংলগ্ন এলাকা এবং সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানিতে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সামান্য অসাবধানতাও এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য