বৈভব সূর্যবংশীর অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনীও রাজস্থান রয়্যালসকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। বরং গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক শুবমান গিলের শতরান ও উদ্বোধনী জুটির দৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয়। এই জয়ের ফলে এবারের আইপিএলের ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটান্স।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস ২১৪ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ গড়ে। কঠিন উইকেটে প্রতিযোগিতার অন্যতম শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বৈভব সূর্যবংশী খেলেন ৪৭ বলে ৯৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে তিনি দলের রানসংগ্রহের মূল ভিত্তি গড়ে দেন।
সূর্যবংশীর পাশাপাশি রাজস্থানের মিডল অর্ডারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আসে। রবীন্দ্র জাদেজা ৪৫ রান করেন এবং ডোনোভান ফেরেইরা দ্রুতগতির ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। তাদের অবদানে দল দুই শতাধিক রান অতিক্রম করে এবং প্রতিপক্ষের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
তবে রান তাড়ায় নেমে গুজরাট টাইটান্স শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। উদ্বোধনী জুটিতে শুবমান গিল ও সাই সুদর্শন ১৬৭ রান যোগ করেন। এই জুটিই মূলত ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। সুদর্শন ৫৮ রান করে আউট হলেও অধিনায়ক গিল দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন।
গিল ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান। তার শতরান গুজরাটের রান তাড়াকে আরও সহজ করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান সংগ্রহ করে গুজরাট টাইটান্স জয় নিশ্চিত করে। ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়ার মাধ্যমে দলটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নকআউট বা প্লে-অফ পর্যায়ে অন্যতম বড় সফল রান তাড়ার কীর্তি গড়ে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| রাজস্থান রয়্যালস | ২১৪ রান |
| বৈভব সূর্যবংশী | ৯৬ (৪৭ বল) |
| চার/ছক্কা | ৮/৭ |
| রবীন্দ্র জাদেজা | ৪৫ রান |
| ডোনোভান ফেরেইরা | ৩৮ রান |
| গুজরাট টাইটান্স | ২১৯/৩ |
| শুবমান গিল | ১০৪ রান |
| সাই সুদর্শন | ৫৮ রান |
| উদ্বোধনী জুটি | ১৬৭ রান |
| জয় | ৭ উইকেটে |
| ব্যবহৃত ওভার | ১৮.৪ |
পুরো মৌসুমে বৈভব সূর্যবংশী ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এই আসরে তিনি ২৩৭.৩ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান করে প্রতিযোগিতা শেষ করেন। এলিমিনেটর ম্যাচে ৯৭ রানের ইনিংস খেলার পর এবারও তিনি শতকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে থামেন। ব্যক্তিগত সাফল্য সত্ত্বেও তার দল ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি।
অন্যদিকে গুজরাট টাইটান্স গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের ব্যাটিং গভীরতা ও চাপ সামলানোর সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ২১৪ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়ার মাধ্যমে দলটি শিরোপা লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিল। এখন তাদের সামনে ফাইনালের চ্যালেঞ্জ, যেখানে প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনাল ম্যাচটি আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে গুজরাট নিজেদের ঘরের মাঠের পরিবেশে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
