খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই মার্চ ২০২৫, ৩:৩ পিএম

ঢাকা, ২ মার্চ ২০২৫ (বাসস): হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর, ইসরাইল সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। এই পদক্ষেপকে একটি সেতুবন্ধন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা গাজায় চলমান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে। জেরুজালেম থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
Table of Contents
রবিবার মধ্যরাতের পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মার্চের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ রমজান মাসের সমাপ্তি পর্যন্ত এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি ইহুদি ধর্মীয় উৎসব পাসওভার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ এই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ছিল। তবে গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় ধাপে কোনো স্পষ্ট চুক্তি এখনো হয়নি, যা জিম্মিদের মুক্তি এবং ২০ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
ইসরাইলি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গাজায় আটক থাকা জিম্মিদের অর্ধেক মুক্তি পাবে। তবে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চুক্তি হলে বাকিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে কায়রোতে মিশরীয়, কাতারি ও আমেরিকান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইসরাইলি কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছিলেন। তবে শনিবার পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ইসরাইলি সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা আরও ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “যুদ্ধের বিপর্যয়কর প্রত্যাবর্তন রোধ করতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সকল জিম্মির মুক্তি অপরিহার্য।”
হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী দ্বিতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।
তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ম্যাক্স রোডেনবেক বলেছেন, “হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নয়। তবে ইসরাইলকে দ্বিতীয় পর্যায়ে যেতে বাধ্য করার ক্ষমতাও তাদের নেই।”
গাজার মুসলমানরা যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশের মধ্যেও রমজানের প্রথম দিনটি রঙিন আলো জ্বালিয়ে উদযাপন করেছে, যা শান্তির প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য