পুতিনের তেল নাকি ট্রাম্পের ছাড়—ভারতের সমীকরণ কী হবে?

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত একটি বাণিজ্য চুক্তি নতুন করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ক্রয় বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আমরা সম্মান করি। তবে ভারতকে রাশিয়ার ‘উন্নত কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে ধরে রাখার বিষয়টি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের। আমরা চাই ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক।”

সোমবার (২ জানুয়ারি) ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। বিনিময়ে, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়াবে। তিনি আরও যুক্তি দেন, এই সমঝোতা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করবে।

যদিও ট্রাম্পের এই দাবির আগের বছরেও পুনরাবৃত্তি হয়েছিল, তখন তা বাস্তবায়িত হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। বর্তমানে ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রাশিয়ান তেল আমদানি করছে, যা দেশটির মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ভারত সরকার বারবার এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে।

জ্বালানি উৎসদৈনিক আমদানি (লাখ ব্যারেল)মোট আমদানির ভাগ
রাশিয়া1533%
সৌদি আরব1022%
যুক্তরাষ্ট্র511%
ভেনেজুয়েলা37%
অন্যান্য1227%

ঐতিহাসিকভাবে, ভারতের রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক মূলত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সস্তায় রুশ তেল পাওয়ার সুযোগকে ভারত গুরুত্ব সহকারে ব্যবহার করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে এসে, মার্কিন চাপের মুখেও, অবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন ভারতের সামনে জটিল সমীকরণ: একদিকে রয়েছে রাশিয়ার নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, অন্যদিকে মার্কিন চাপ ও বাণিজ্য সুবিধা। আগামী কয়েক মাসে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে।