গাজায় বিমান হামলায় নিহত ৯ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাতে গাজা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত চারটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার সময় অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে হামলার প্রভাব সরাসরি আবাসিক এলাকাগুলোতে পড়ে এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালগুলো নিহতের সংখ্যা ছয়জন বলে জানিয়েছিল। তবে রাতভর উদ্ধারকাজ চলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত নয়জনে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

গাজার স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, অবরোধ এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি থাকায় আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং রোগীদের দ্রুত স্থানান্তর উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও গাজায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের দাবি, গত বছরের ১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তিন হাজারেরও বেশি বার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মানবিক পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপত্যকাজুড়ে সাড়ে নয় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নারী ও শিশু। মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ত্বরান্বিত করা এবং যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
সর্বশেষ হামলার স্থানগাজা নগরী
হামলার ধরনবিমান হামলা
লক্ষ্যবস্তু৪টি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট
নিহতঅন্তত ৯ জন
নিহত শিশু৪ জন
আহতবেশ কয়েকজন
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সময়গত বছরের ১ অক্টোবর
অভিযোগকৃত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন৩,০০০ বারের বেশি
লঙ্ঘনের ঘটনায় নিহতঅন্তত ৯০০ জন
লঙ্ঘনের ঘটনায় আহত২,০০০-এর বেশি
যুদ্ধ শুরুর পর নিখোঁজ৯,৫০০-এর বেশি
নিখোঁজ নারী ও শিশুপ্রায় ৪,৭০০ জন

সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও গাজার নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধবিরতির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও আবাসিক এলাকায় হামলা, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং চলমান মানবিক সংকট আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে গাজার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।