গাইবান্ধায় কুকুরে তিনজনের মৃত্যু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার (৩৭) সর্বশেষ গত ৮ মে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে প্রায় ১৪ দিন আগে একটি কুকুর কামড় দিয়েছিল। কামড়ের পর তিনি প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা না থাকায় তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ফার্মেসি ও বেসরকারি ক্লিনিকে খোঁজাখুঁজি করে উচ্চমূল্যে টিকা সংগ্রহ করেন। তবে ততক্ষণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ দিন পর তিনি মারা যান।

এর আগে একই ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দা রানী (৫৫) এবং ফুলু মিয়া (৪২) জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে মৃত্যুবরণ করেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ফলে মোট তিনজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া গত ২২ এপ্রিল একই উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি এবং পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের মণ্ডলের হাট এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে দুই শিশু ও এক নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আফরোজা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকি নয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা সহজলভ্য নয়, ফলে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামবয়সঘটনাঅবস্থা
নন্দা রানী৫৫কুকুরের কামড়মৃত্যু (৬ মে)
ফুলু মিয়া৪২কুকুরের কামড়মৃত্যু (৬ মে)
রতনেশ্বর কুমার৩৭কুকুরের কামড়মৃত্যু (৮ মে)
আফরোজা বেগমঅজ্ঞাতকুকুরের কামড়ঢাকায় চিকিৎসাধীন
৯ জন নারী ও শিশুবিভিন্নকুকুরের কামড়চিকিৎসাধীন

স্থানীয় সমাজকর্মী ও শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, হাসপাতালে টিকা না থাকায় মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি দ্রুত পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কিছু এলাকায় কুকুর নিধনের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সময়মতো টিকা নিলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। পাশাপাশি ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।