খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

খুলনা নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে আটক করেছে র্যাব-৬। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে খুলনা সদর থানাধীন মিয়াপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) র্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুঁটিখালী গ্রামের নাসির উদ্দীন সেন্টু (৩৭) ও তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩২), কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার মারিয়াম (২০) এবং আয়শা। র্যাবের দেওয়া তথ্যে তাদের ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব-৬ জানায়, মিয়াপাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্যের একটি চালান নিয়ে কয়েকজন অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তাদের হেফাজতে থাকা প্রায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব সদস্যরা ইয়াবাগুলো জব্দ করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে উদ্ধার করা ইয়াবার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কিংবা মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল—এ বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের উদ্ধার করা ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের possession, পরিবহন, বিক্রি ও সরবরাহ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। মামলার পর তদন্তের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন, মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। আদালতে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত হবে।
খুলনা নগরীর একটি আবাসিক এলাকায় একসঙ্গে চারজনকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য