,

দেশে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম: নতুন আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা

সারাদেশে হাম এবং হাম-সদৃশ উপসর্গের বিস্তার অব্যাহত থাকায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি এই রোগে প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ। মাঠপর্যায়ের নজরদারি ও হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চললেও রোগী ও স্বজনদের উদ্বেগ কিছুতেই কমছে না।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী এবং বাকি দুইজন এই রোগের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রাণ হারানোদের বড় অংশই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গ ধরা পড়েছে। শুধু শেষ ২৪ ঘণ্টাতেই ৬৭৭ জনের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা গেছে। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ১৭ হাজার ৪০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত একদিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৯৯ জন।

উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে বড় ধরনের জটিলতা এড়াতে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অতিরিক্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাস ও আক্রান্ত ব্যক্তির ড্রপলেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় তীব্র জ্বর, শরীর জুড়ে লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা পুষ্টিহীনতার মতো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়, যা শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭৬৯ জনে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামেই মারা গেছেন ৯৮ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল প্রাদুর্ভাবের তুলনায় ল্যাবে পরীক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত রোগীর চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। উপসর্গ থাকা মাত্রই রোগীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে, যেন অন্যান্য শিশুদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আলাদা করা বা আইসোলেশনে রাখা, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সেবনের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে গ্রাম ও শহরের প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও টিকাদান অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।