জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম ওরফে হীরা (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তোরাই মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের জাবেদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি গোয়ালন্দের ইজিবাইক স্ট্যান্ডে লাইনম্যানের কাজ করতেন।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুলের সঙ্গে কামরুল নামে এক ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কামরুল গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে পুলিশ ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।
শনিবার সকালে গোয়ালন্দ বাজারে কেনাকাটা শেষে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন শরিফুল। পথে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তোরাই মোড়ে পৌঁছালে কামরুল তাঁর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় শরিফুল গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থনৈতিক বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এলেও ঘটনার পূর্ণ কারণ এবং হামলার ধরন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
শরিফুলের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্য সড়কে ছুরিকাঘাতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কামরুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং অর্থ লেনদেনের বিরোধের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে।
মন্তব্য