জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪১ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের পর নতুন করে দল গড়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে ব্রাজিল। সামনে এখন ২০৩০ বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কাঠামো সাজাতে তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে নজর দিচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে নির্ধারিত তিনটি প্রীতি ম্যাচও হতে পারে সেই পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। চার দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফল ব্রাজিলের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় দলটি। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম ব্রাজিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার পর থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের লক্ষ্য থাকবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়। সেই অভিযানে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি যেসব তরুণ ফুটবলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, তাদের মধ্যে ১০ জনকে সামনে এনেছে ফিফা। প্রত্যেকের বয়স ২৫ বছর বা তার কম এবং তাঁরা জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি।
এস্তেভাও
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ তারকাদের একজন হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন এস্তেভাও। চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি তিনি। তবে জাতীয় দলের পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্ব রয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১১ ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন এই তরুণ।
ভিতর রেইস
২০ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক ভিতর রেইস ধারে জিরোনায় খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে এবং এখন তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে ফিরেছেন। ব্রাজিলের রক্ষণভাগে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
কাইকি ব্রুনো
২৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক কাইকি ব্রুনো ক্রুজেইরোর হয়ে ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। নতুন মৌসুমে তিনি ধারে ইতালির কোমোতে খেলবেন। সেখানে কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে খেলার সুযোগ তাঁর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ওয়েসলি
২২ বছর বয়সী ওয়েসলিও চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। বর্তমানে রোমার হয়ে বাঁ দিকে খেললেও তাঁর স্বাভাবিক অবস্থান রাইট-ব্যাক। ভবিষ্যতে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
আন্দ্রেই সান্তোস
মিডফিল্ডার আন্দ্রেই সান্তোসের বয়স ২২। চেলসিতে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর ফর্মে প্রভাব পড়েছিল। এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সুযোগ পেয়ে আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
জোয়াও পেদ্রো
২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো চেলসির হয়ে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ১৫। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো গোলের দেখা পাননি তিনি। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে হলে সেই ঘাটতি কাটানোই হবে তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
জোয়াও গোমেস
২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জোয়াও গোমেস উলভসের অবনমন সত্ত্বেও নিজের সুনাম ধরে রেখেছেন। এখন তিনি অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়ার পথে। নতুন ক্লাবে নিয়মিত পারফরম্যান্স তাঁকে জাতীয় দলের প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান এনে দিতে পারে।
কাইও জর্জ
২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার কাইও জর্জ ২০২৫ সালে ব্রাজিলিয়ান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। গোল করার দক্ষতার কারণে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তাঁকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিতর রোকে
বার্সেলোনায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলে ফিরে নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন ভিতর রোকে। পালমেইরাসের হয়ে নিয়মিত গোল করে তিনি আবারও নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। তাঁর বয়স এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে জাতীয় দলে দীর্ঘ সময় অবদান রাখার সুযোগ আছে।
ইগর জেসুস
২৫ বছর বয়সী ইগর জেসুস নটিংহাম ফরেস্টের হয়ে প্রথম মৌসুমেই ১৬ গোল করেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে গোল করার সক্ষমতা দেখিয়ে তিনি ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।
এই ১০ খেলোয়াড়ের সবার পথ এক নয়। কেউ চোটের কারণে বিশ্বকাপের সুযোগ হারিয়েছেন, কেউ ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগের জন্য লড়ছেন, আবার কেউ নতুন ক্লাবে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। তবে তাঁদের বয়স ও সম্ভাবনা ব্রাজিলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই।
আনচেলত্তির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই তরুণদের সঠিকভাবে মিশিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করা। সেপ্টেম্বরের প্রীতি ম্যাচগুলোতে নতুন মুখদের সুযোগ দিলে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য সম্ভাব্য কাঠামোও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে।
২০২৬ সালের ব্যর্থতার পর ব্রাজিলের পুনর্গঠন কতটা কার্যকর হয়, তার উত্তর অবশ্য এখনই পাওয়া যাবে না। তবে ২০৩০ সালের শিরোপা অভিযানের ভিত্তি তৈরির কাজ যে শুরু হয়ে গেছে, তরুণদের ওপর এই নজর তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য