জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১৭ পিএম

যশোরের চৌগাছায় সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাফেজ নাজমুল ইসলাম (৩৫) নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের একটি সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
নাজমুল ইসলাম খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আবু সাঈদ শেখের ছেলে। তিনি যশোর শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে নাজমুল ইসলাম ওই শিশুকে সঙ্গে নিয়ে চৌগাছার নারায়ণপুর এলাকায় তাঁর গ্রামের বাড়ির দিকে যান। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে চটপটি খাওয়ানোর কথা বলে শিক্ষক শিশুটিকে কপোতাক্ষ নদের সেতুর নিচে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজনের নজরে এলে তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নাজমুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটি আগের কিছু ঘটনার কথাও জানিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং আগের ঘটনাগুলোর প্রকৃতি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তের সময় শিশুটির নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় শিশুর বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না করে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা জরুরি।
ঘটনার আরেকটি দিকও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে মারধর বা শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে খবর দিয়ে অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়াই নিরাপদ ও আইনসম্মত পথ।
ঘটনার পর শিশুটির পরিবারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে একান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো শিশু হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে পড়লে, নির্দিষ্ট কারও কাছে যেতে অস্বস্তি প্রকাশ করলে, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তাকে দোষারোপ না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং দ্রুত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো দরকার।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।
মন্তব্য