মৃত্যুর ৭ বছর পর আইয়ুব বাচ্চু পেলেন একুশে পদক

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চু একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। তার সৃষ্টিশীলতা, গিটারবাদনে দক্ষতা এবং সংগীতের প্রতি আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা রক সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রয়াণের প্রায় সাত বছর পর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘোষণায় দেশের সংগীতাঙ্গনে আবেগ, শ্রদ্ধা ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর আকস্মিকভাবে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু ঘটে। তার চলে যাওয়া বাংলা ব্যান্ডসংগীতে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা আজও পূরণ হয়নি বলে মনে করেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা। দীর্ঘদিন ধরেই সংগীতপ্রেমীদের একটি বড় অংশ মনে করে আসছিল, তার অবদান জাতীয় পর্যায়ে আরও আগে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদানকে অনেকেই বিলম্বিত হলেও যথার্থ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

এ ঘোষণা প্রসঙ্গে আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আখতার চন্দনা গণমাধ্যমে অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই সম্মান একদিকে গর্বের, অন্যদিকে গভীর বেদনার। কারণ, আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকলে নিজ হাতে পদক গ্রহণের মুহূর্তটি তার জন্য পরিপূর্ণ হতো। তবুও তিনি বলেন, দেরিতে হলেও রাষ্ট্র যখন তার অবদানকে স্বীকার করছে, সেটি আইয়ুব বাচ্চুর কর্মজীবনের জন্য এক অনন্য অর্জন।

চন্দনা আরও উল্লেখ করেন, আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে দেশের মানুষের এক গভীর আবেগী সম্পর্ক রয়েছে। তার গান ভালোবাসা, প্রতিবাদ, সংগ্রাম ও আশার গল্প বলে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। এই উত্তরাধিকার ধরে রাখতে ২০২০ সালে গঠিত আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে সংগীতচর্চা সংরক্ষণ, নতুন প্রতিভা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড এলআরবি-ও এই সম্মানকে ব্যান্ডসংগীতের জন্য একটি যুগান্তকারী স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, একুশে পদক শুধু একজন শিল্পীর অর্জন নয়, বরং বাংলা রক সংগীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আইয়ুব বাচ্চুর নির্ভীক সৃজনশীলতা ও গিটারের ভাষা তরুণ সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

আইয়ুব বাচ্চুর জীবন ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের ছকে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
পূর্ণ নামআইয়ুব বাচ্চু
জন্ম তারিখ১৬ আগস্ট ১৯৬২
মৃত্যু১৮ অক্টোবর ২০১৮
পেশাসংগীতশিল্পী, গিটারিস্ট, সুরকার
ব্যান্ডএলআরবি
সংগীতধারারক, হার্ড রক
রাষ্ট্রীয় সম্মানএকুশে পদক (মরণোত্তর)

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় প্রথমবারের মতো আরেকটি ব্যান্ডের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাষ্ট্র ধীরে ধীরে ব্যান্ডসংগীতের অবদানকেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় আইয়ুব বাচ্চুর নাম ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে। শারীরিকভাবে তিনি আজ নেই, কিন্তু তার সংগীতের মাধ্যমে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাংলার মানুষের হৃদয়ে।