খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তরুণ পর্যটক মোহাম্মদ সায়েমের মরদেহ প্রায় ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার রেজুখাল এলাকায় সাগরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত সায়েম (২২) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে। শনিবার দুপুরে ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিনি সাগরের প্রবল ঢেউয়ে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জেলে, বিচ কর্মী, ফায়ার সার্ভিস, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করলেও সেদিন তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
সায়েমের বন্ধু মো. আরমান জানান, শনিবার সকালে তারা দুজন বান্দরবান থেকে মোটরসাইকেলে কক্সবাজারে আসেন। পরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে গিয়ে ইনানী সৈকতের দক্ষিণ পাশে জেটিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় গোসলের জন্য পানিতে নামেন। একপর্যায়ে হঠাৎ একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে সায়েম গভীর সাগরের দিকে ভেসে যান। আরমান কোনোভাবে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও তার বন্ধুকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি তুলনামূলক নির্জন ছিল। সে সময় সেখানে লাইফগার্ড, পুলিশ কিংবা পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। সায়েম সাগরে তলিয়ে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় জেলে ও বিচ কর্মীদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান বলেন, দুই বন্ধু একসঙ্গে সৈকতে গোসল করতে নেমেছিলেন। প্রবল ঢেউয়ের কারণে সায়েম নিখোঁজ হলেও তার বন্ধু প্রাণে রক্ষা পান। খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন জানান, শনিবার দিনভর এবং রাতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও সায়েমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে কোস্টগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিচ কর্মীরা আবারও যৌথ অভিযান শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজুখাল এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সায়েমের বাবা মোহাম্মদ ইকবাল মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পরে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবছর কক্সবাজারের বিভিন্ন সৈকতে প্রবল স্রোত, হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া রিপ কারেন্ট এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে পানিতে নামার কারণে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় গোসল করা, সতর্কতামূলক পতাকা ও নির্দেশনা মেনে চলা এবং লাইফগার্ডবিহীন বা নির্জন সৈকতে পানিতে না নামার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতাও সাগরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য