শনিবার রাত ছিল স্বাভাবিকই—যতক্ষণ না মহাখালীর খাজা টাওয়ারের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ আগুন দেখা যায়। রাত তখন সাড়ে নয়টা। চিৎকার, ধোঁয়া আর ব্যস্ততার মধ্যে যাত্রীদের দ্রুত নামতে দেখা যায়। অল্পক্ষণের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে—অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাসে আগুন ধরিয়ে পালিয়েছে।
বাসটি আমতলী মোড় থেকে তিতুমীর কলেজের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীদের ভাষ্য, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনা ঘটে। বাস ধীরে চলছিল বলে দ্রুত নেমে বাঁচতে পেরেছেন সবাই। এ ধরনের মুহূর্তে সামান্য দেরিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। চালক এবং সহকারীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই যাত্রীদের রক্ষা করেছে।
পুলিশ খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সরোয়ার বলেন, “এটি পরিকল্পিত দুষ্কৃতিমূলক ঘটনা। সৌভাগ্য যে কেউ আহত হয়নি। বাসটি থানায় রাখা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।” তিনি আরও জানান যে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি শুধু ভীতি নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। রাজধানীতে চলমান নাশকতার ধরণ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানবাহন টার্গেট করে আগুন দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আতঙ্ক তৈরির অংশ হতে পারে।
মহাখালীর দৈনন্দিন ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় অনেকেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। বাসের ভেতরে থাকা এক যাত্রী বলেন, “আর দুই মিনিট দেরি হলে আমরা কেউই বের হতে পারতাম না।” উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে—তবে এই সময়ের আতঙ্ক তারা ভুলতে পারছেন না।
এখন সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়—এ ধরনের নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর নজরদারি চালাবে কি না। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
