খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৫:১৮ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম সাগরের ইয়াবা সেবনের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যচিত্রে দেখা যায়, একটি ঘরের বারান্দার মতো স্থানে খাটের ওপর বসে জহুরুল ইসলাম সাগরকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর পাশে আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও তার পরিচয় স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় জহুরুলের অজান্তেই ঘটনাটি ধারণ করা হয় এবং পরে তা প্রকাশ্যে আসে। তবে এই দৃশ্যচিত্রের সত্যতা যাচাই নিয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিতর্ক বা ভিন্নমত প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জহুরুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সেবন ও মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আগে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস করেননি। দৃশ্যচিত্রটি ছড়িয়ে পড়ার পর এখন সেই পুরনো অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে বলে মনে করছেন।
ঘটনার পর থেকে জহুরুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এতে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু বলেন, সংগঠনের ভেতরে মাদকাসক্ত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই স্থান দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভেতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঘটনাটি এখন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই পুরো বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য