খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৫:২০ পিএম

সম্পর্কের অবনতি, অপহরণ এবং আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ভারতের কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলায় ঘটে গেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চলন্ত একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগে প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থেকে লাফ দেন এক তরুণী। এরপরই আগুনে পুড়ে মারা যান তার সাবেক প্রেমিক, যিনি তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত।
শনিবার (২৭ জুন) সিরা তালুকের জোগিহাল্লির কাছে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই গাড়িটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩০ বছর বয়সী নাগেন্দ্র ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন অপহৃত তরুণী এবং উবার ক্যাবের চালক প্রবীণ। তাদের উদ্ধার করে তুমাকুরু জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত নাগেন্দ্র এবং বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ওই তরুণী একসময় প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। তবে কিছুদিন আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত বিরোধ বাড়তে থাকায় তরুণী নাগেন্দ্রর ফোন নম্বর ব্লক করে দেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে বেঙ্গালুরুর জয়নগরে তরুণীর ভাড়া বাসায় গিয়ে নাগেন্দ্র তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে একটি হলুদ নম্বরের উবার ক্যাবে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যান। তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার জয়নগর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আনকোলার দিকে যাওয়ার পথে নাগেন্দ্র তরুণীকে জানিয়ে দেন যে তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং তাকেও বাঁচতে দেবেন না। এ সময় তার কাছে একটি বিস্ফোরক ডিভাইস ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাপথেই তিনি সেটি তরুণীকে দেখিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার ভয়াবহ মোড় আসে জোগিহাল্লির কাছে পৌঁছানোর পর। অভিযোগ রয়েছে, চলন্ত গাড়ির ভেতরে নাগেন্দ্র ছুরি দিয়ে তরুণীর ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি বুঝে চালক দ্রুত গাড়ি থামিয়ে দেন। সেই সুযোগে তরুণী দরজার লক খুলে বাইরে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান।
তরুণী গাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায় পুরো গাড়ি। নাগেন্দ্র ভেতরেই আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান। বিস্ফোরণের জেরে জাতীয় মহাসড়কে প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তুমাকুরুর পুলিশ সুপার অশোক কে.ভি. জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাগেন্দ্র নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। গাড়ি থেকে বোমা সদৃশ বিস্ফোরক উপাদানও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, কীভাবে সক্রিয় করা হয়েছিল এবং কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অপহরণ, হত্যাচেষ্টা এবং পরিকল্পিত আত্মঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আহত তরুণী ও ক্যাবচালকের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক উপাদান এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে তদন্তকারী সংস্থা।
মন্তব্য