ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে আরেক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে এবং সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে আসা এই আকস্মিক ও মারাত্মক সামরিক হুমকি প্রতিহত করার জন্য ইসরায়েলের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আকাশসীমায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সর্বদা প্রস্তুত থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। বিবৃতিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন শোনামাত্রই বিলম্ব না করে অবিলম্বে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থান বা সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে। এই হামলার কারণে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির কারণে জেরুজালেম এবং তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এবং জনবহুল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সাইরেনের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে শুরু করেন।
পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের উত্তর অংশে একটি পতিত ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সামরিক বাহিনী পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সাধারণ মানুষের জন্য পূর্ববর্তী সতর্কতা শিথিল করে। নতুন নির্দেশনায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সুরক্ষিত স্থান থেকে স্বাভাবিক নিয়মে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিচে এই ঘটনা সংক্রান্ত প্রধান তথ্যসমূহ একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
| হামলার উৎস দেশ | আক্রান্ত অঞ্চল ও শহরসমূহ | গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ | বর্তমান বেসামরিক পরিস্থিতি |
| ইরান | ইসরায়েলের সমগ্র ভূখণ্ড | আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয়করণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ | নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক |
| ইয়েমেন | জেরুজালেম, তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েল | ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা | আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নাগরিকদের বের হওয়ার অনুমতি প্রদান |
এই দ্বিমুখী হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা দেশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তৎপরতার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক বাহিনী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সচল রেখেছে।
