নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার হিসেবে দেখানো এবং তাকে হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
আইনগত প্রক্রিয়া ও মামলার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, গত বছরের ৯ মে ভোর তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই জামিন আপিল প্রক্রিয়ায় স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ১০টি মামলায় দেওয়া জামিন বহাল রাখে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি পৃথক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। মামলাগুলো ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা হয় বলে জানা যায়। একটি মামলায় ২ মার্চ এবং অপর মামলায় ১২ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে।
এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে ২৬ এপ্রিল একটি রুল জারি করেন। রুলে বলা হয়, কেন ওই দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একই আদেশে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার হিসেবে না দেখানো এবং হয়রানি না করার নির্দেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।
মামলাসমূহ ও আদালতীয় সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা | সিদ্ধান্ত/অবস্থা |
|---|---|---|
| ৯ মে (গত বছর) | চুনকা কুটির থেকে গ্রেপ্তার | গ্রেপ্তার কার্যকর |
| পরবর্তী সময় | বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো | একাধিক মামলা যুক্ত |
| ১৮ নভেম্বর | আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো | নতুন মামলা সংযুক্ত |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি | পাঁচ মামলায় জামিন | পরবর্তীতে স্থগিত |
| ২ মার্চ | হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর | বিচারিক আদালতের অনুমোদন |
| ১২ এপ্রিল | আরেক মামলায় একই আবেদন মঞ্জুর | বিচারিক আদালতের অনুমোদন |
| ২৬ এপ্রিল | হাইকোর্টের রুল ও নির্দেশ | হয়রানি না করার নির্দেশ |
| পরবর্তীতে | রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন | হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত চাওয়া |
এই মামলাসমূহ ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো বর্তমানে উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
