খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ১২:২৯ এএম

সাউদাম্পটনের রোজ বোল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ম্যাচটিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এবং নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১২৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে বিনা উইকেটে ৪৮ রান তুলে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল পাকিস্তান নারী দল। তবে এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিং, যার মুখে পড়ে মাত্র ৩৫ রানের ব্যবধানে ৮টি উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০০ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল, অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলো পাকিস্তানের।
Table of Contents
শনিবার সাউদাম্পটনের রোজ বোলে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুব বড় কোনো স্কোর গড়তে না পারলেও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১২৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দলের ব্যাটাররা বড় কোনো ব্যক্তিগত ইনিংস খেলতে না পারলেও দলীয় সমন্বয়ে এই লড়াকু ও মাঝারি পুঁজি তৈরি হয়। পাকিস্তানের বোলাররা শুরু থেকেই ডাচদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও বাংলাদেশি ব্যাটাররা উইকেট ধরে রেখে স্কোরবোর্ড সচল রাখার দিকে মনোযোগী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১২৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস, যা জয়ের জন্য খুব সহজ লক্ষ্য না হলেও বোলারদের লড়াই করার মতো একটি পুঁজি এনে দেয়।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান নারী দলের দুই ওপেনার মুনিবা আলী এবং গুল ফিরোজা দুর্দান্ত সূচনা করেন। তাঁরা বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে প্রথম ৭ ওভারেই বিনা উইকেটে ৪৮ রান তুলে ফেলেন। ওপেনিং জুটির এই চমৎকার ব্যাটিং দেখে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল পাকিস্তান খুব সহজেই ম্যাচটি নিজেদের পকেটে পুরে নেবে।
তবে ওপেনিং জুটি ভাঙার পরপরই ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রথম উইকেটের পতনের পর পাকিস্তানের ব্যাটাররা উইকেটে এসে থিতু হতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তার মেঘলাদের দুর্দান্ত এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ৪৮ রান থেকে শুরু হওয়া এই ধস ১০০ রানে গিয়ে ঠেকে, যার মাঝে মাত্র ৩৫ রান যোগ করতে তারা হারিয়ে ফেলে ৮টি মূল্যবান উইকেট।
এই জয়ের ফলে চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ ও আশা অক্ষুণ্ণ রইল। টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস নারী ক্রিকেট দলকে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া নারী দলের বিপক্ষে এক প্রকার অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাওয়া পাকিস্তান দল এই ম্যাচেও পরাজিত থাকায় টানা তিন হারের তেতো স্বাদ পেল। এই হারের ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে পড়তে হলো পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলকে।
canপাকিস্তানের মুঠো থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নেওয়ার মূল কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। বিশেষ করে নাহিদা ও মেঘলার দুর্দান্ত বোলিং স্পেল পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর মানসিক ও রান রেটের চাপ তৈরি করে। ডট বলের পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে তাঁরা পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন।
পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারই এই চাপের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি, যার ফলে শেষ পর্যন্ত ১০০ রানেই থামতে হয় তাদের। ২৩ রানের এই জয়ে বাংলাদেশ দল তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে বলে ম্যাচ পরবর্তী পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।
মন্তব্য