খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

ক্যাটাগরি-২ মাত্রার হারিকেন এরিন বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলীয় আউটার ব্যাংকস এলাকায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে, পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রাণঘাতী ঢেউ ও বিপজ্জনক চোরাস্রোতের বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
যদিও নর্থ ক্যারোলিনায় এরিনের সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা কম, তবুও অঙ্গরাজ্যটি গত বছরের ভয়াবহ হারিকেন হেলেন থেকে এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ কারণে মঙ্গলবারই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলের কিছু এলাকায় ট্রপিক্যাল স্টর্ম সতর্কতা জারি রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এরিন থেকে সৃষ্ট ঢেউ আগামী কয়েকদিনে বাহামা, বারমুডা, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও আটলান্টিক কানাডা পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে।
বুধবার দুপুরে এরিন নর্থ ক্যারোলিনার উপকূল থেকে প্রায় ৩৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল, তখন এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার ছিল। এনএইচসি আশঙ্কা করছে, এটি আবারও শক্তি সঞ্চয় করে বড় ধরনের হারিকেনে পরিণত হতে পারে।
ঝড়টির অস্বাভাবিক বড় আকারের কারণে কেন্দ্র থেকে শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে। হারিকেন বিশেষজ্ঞ মাইকেল লাওরি একে আখ্যা দিয়েছেন ‘এনরমাস এরিন’।
সরিয়ে নেওয়া ও প্রস্তুতি
তিনি আরও জানান— “আমরা ইতোমধ্যেই বিমানসহ তিনটি ওয়াটার রেসকিউ টিম, ২০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য, নৌকা এবং উচ্চ ক্লিয়ারেন্স যানবাহন উপকূলের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করেছি।”
আউটার ব্যাংকস হয়ে যাওয়া হাইওয়ে ১২ প্রায় ২০ ফুট (৬ মিটার) উঁচু ঢেউয়ে অচল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গভর্নর স্টেইন মনে করিয়ে দেন, গত বছরের হারিকেন হেলেন নর্থ ক্যারোলিনায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছিল, যা অঙ্গরাজ্যের প্রায় দুই বছরের বাজেটের সমান। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পর্যাপ্ত ফেডারেল সহায়তা না দেওয়ার সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ফেমা (ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি) ভেঙে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তার মতে, জরুরি ব্যবস্থাপনার কাজ মূলত রাজ্য সরকারগুলোর করা উচিত। ফেমা দীর্ঘদিন ধরেই ডানপন্থী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে।
এখন আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমের ঐতিহাসিক চূড়ান্ত সময় (১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর) চলছে। যদিও শুরুটা তুলনামূলক শান্ত ছিল, এ পর্যন্ত মাত্র চারটি নামমাত্র ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। তবুও ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মৌসুমটিকে ‘গড়ের চেয়ে বেশি সক্রিয়’ বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
তাদের মতে, এখনও প্রমাণ সীমিত হলেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিকেনের ঘনত্বও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য