জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১:৪৫ পিএম

নাটোরের লালপুরে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় একদিকে যেমন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
লালপুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল অর্ধেকেরও কম। এর আগের দিন রোববার রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৫ মেগাওয়াট।
সরবরাহ ও চাহিদার এই বড় ব্যবধানের কারণে লালপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবারকে ঘুমের সময় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
ওয়ালিয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সোহেল আলী বলেন, অটোরিকশা চালিয়েই তাঁর পরিবারের খরচ চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে অনেক সময় গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হতে পারছেন না। এতে তাঁর আয় কমে গিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
লালপুর গ্রামের গৃহিণী আলিজা পারভীন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে পরিবারের সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে রাতে ছোট শিশুদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির ট্যাঙ্কেও পানি তোলা যাচ্ছে না। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েছে। ওয়ালিয়া গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। রাতে পড়ার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। গনি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. গনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের অনেক সময় কাজ না করে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে কাজের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
লালপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লালপুর জোনের নয়টি ফিডারে পরিস্থিতি সামাল দিতে কখনও এক ঘণ্টা, আবার কখনও দেড় ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা ও কারখানার কাজ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন কাজেও তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত কমিয়ে এনে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে দিনের পাশাপাশি রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য