জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে শতভাগ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রতিবেশীদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতেও প্রতি নির্বাচনে শতভাগ পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হয় না এবং নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে সেখানে ঘোষণার পর সবাই ফলাফল মেনে নেয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তব্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর জোর দেন রিজভী। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলকে জনসমক্ষে কথা বলার সময় ভাষা ও শব্দচয়নে সতর্ক হতে হবে। নেতাদের বক্তব্য কর্মীদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর মতে, নতুন আইন করলেই হবে না; গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সবচেয়ে আগে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল ও অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি বা শোকজ করা হয়েছে। অতীতে প্রতিপক্ষকে দমনকারী পেশিশক্তির প্রশংসা করা হলেও বিএনপি এখন কোনো মাস্তান বা দখলদারকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে তিনি দলের একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া। তবে সেই সমালোচনা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়ে কল্যাণকর ও ভবিষ্যৎমুখী হয়। এতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হবে। সর্বশেষে নিজের মূল্যায়ন করার মানসিকতা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক হাতে কখনো তালি বাজে না।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য