জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং মেঘনা নদীর নৌপথে অবাধ চাঁদাবাজি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এই জনপ্রতিনিধি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, নৌপথে চাঁদা আদায়ের পেছনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অসাধু কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে জড়িত। পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস লাইন দেওয়ার জন্য তিতাসের কর্মকর্তাদের দায়ী করে তাঁদের ‘পেটাতে’ থানায় বার্তা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রবিবার জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব এবং জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁ এলাকার জ্বলন্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মেঘনা নদী দিয়ে বালুবাহী বাল্কহেড কিংবা অন্যান্য মালবাহী নৌযান যাতায়াতের সময় শুরু হয় চাঁদাবাজি। এখন নাকি মুঠোফোনে আর্থিক সেবার মাধ্যমেও কৌশলে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের পেছনে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে দাবি করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিপজ্জনক গ্যাস লাইনের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, একা সোনারগাঁয়েই প্রায় ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যার বেশিরভাগই আগের সরকারের আমলে অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ গ্যাস লাইনের অপরাধে যদি কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা হয়, তবে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের এক নম্বর আসামি করতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিতাস কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি মান্নান জানান, তিনি স্থানীয় থানায় ইতিমধ্যেই অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে অনৈতিক কাজে যুক্ত তিতাস কর্মকর্তারা এলাকাতে এলে তাঁদের আগে পিটুনি দেওয়া হয়। তিতাস কর্মকর্তাদের অপকর্ম রোধে কঠোর বার্তা প্রদান এবং স্থানীয় নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসন কী উদ্যোগ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য