আফসার আলী আহমেদ বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা ও রংপুর ও নীলফামারী জেলার রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
Table of Contents
আফসার আলী আহমেদ | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
আফসার আলী-আহমেদের জন্ম ১৩ মার্চ ১৯২০ রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায়। তিনি নীলফামারী শহরের শাহীপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়ি ছিলো জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম বালাগ্রাম গ্রামে।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
আফসার আলী-আহমেদ ১৯৭০ সালে মেম্বর অব ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি (এমএনএ), ১৯৭২ সালে এমসিএ ও ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকে তৎকালীন নীলফামারী মহকুমা থেকে বর্তমান জেলা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মহকুমা ও জেলা আওয়ামী লীগে ৩৪ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু
২০ এপ্রিল (সোমবার) ২০১৫ সালে বার্ধক্যজনিত রোগে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, ছয় মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। নীলফামারী জেলা শহরের সার্কিট হাউস কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সংসদ সদস্য সম্পর্কে তথ্যঃ
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ