দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগের সংক্রমণ যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, যা ঘটেছ স্রেফ হামের মারাত্মক উপসর্গের কারণে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব ধরা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা এবং সিলেট বিভাগে একজন করে মোট দুজন মারা গেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ায় জনমনে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৮৮০ জনে।
পরিসংখ্যানের গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই মোট ৮৮০ জন মৃতের মধ্যে ৯৮ জনের ক্ষেত্রে হাম রোগটি ল্যাব টেস্টে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাকি ৭৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ বা জটিলতা নিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে নতুন করে ১০৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে দেশে এ পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১৭ হাজার ৩৮৫ জনে।
রোগের লক্ষণ বা সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যাও রীতিমতো উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখতে পেয়েছেন চিকিৎসকরা। এই নতুন সংখ্যাটি যোগ হওয়ার পর দেশজুড়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা শৈথিল্য কিংবা সচেতনতার অভাবের কারণে শিশু ও তরুণদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ হঠাৎ করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে টিকা নেওয়ার হার কম, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি, যাতে রোগটি দ্রুত ছড়াতে না পারে।
মন্তব্য