চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে কর্মরত এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই কক্ষ থেকে তার স্ত্রী ও দশ মাসের এক কন্যা শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিল্যাক্স জোনের একটি কক্ষে।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম আমিনুল ইসলাম। ৩২ বছর বয়সী আমিনুল জেলার মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের পুত্র। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ লাইনে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার এবং তাদের কোলজুড়ে রয়েছে দশ মাসের একটি কন্যাসন্তান।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার দুপুরে আমিনুল ইসলাম নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিল্যাক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। ওই সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানও ছিলেন। হোটেল কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল, সন্ধ্যা এবং রাতে বেশ কয়েকবার আমিনুল ইসলামকে হোটেল থেকে বাইরে যাওয়া-আসা করতে দেখা গেলেও তার স্ত্রী বা সন্তানকে কক্ষের বাইরে আসতে দেখা যায়নি।
পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে হোটেল কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী কক্ষ পরিষ্কার করার জন্য ১০৪ নম্বর কক্ষের সামনে যান। তারা দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার এসেও ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে কক্ষের ভেতর থেকে আমিনুলের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। হোটেল কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের হুকের সঙ্গে স্বামী আমিনুল ইসলামের মরদেহ ঝুলতে দেখেন এবং পাশে তার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ সেখান থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে এবং আহত গৃহবধূ ও শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পারিবারিক সম্মতিতে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাহমিনা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দূরত্ব ও অশান্তি চলছিল। নিহতের শাশুড়ি আমেনা বেগম জানান, তার মেয়ে গর্ভবতী থাকাকালীন আমিনুল সেবা-যত্নের কথা বলে তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। রবিবার সকালে জন্মসনদের কথা বলে তাহমিনাকে খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান আমিনুল। এরপর বিকেলে মেয়ের সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা হলে তাহমিনা তার মাকে জানান যে স্বামী নতুন বাসা নিয়েছেন এবং সোমবার সকালেই সেখানে চলে যাবেন। কিন্তু সোমবার সকালে সুখবর পাওয়ার বদলে মেয়ের এমন মর্মান্তিক ও রক্তাক্ত অবস্থার খবর পান তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমিনুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে তার আহত স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা দশ মাস বয়সি শিশুকন্যাটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মন্তব্য