জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভেতরে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চড় মারা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেলা কৃষক দলের সদ্য সাবেক সদস্যসচিব মজিবর রহমানের মুক্তির দাবিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সড়ক অবরোধ ও পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এর ফলে দিনাজপুরের সঙ্গে প্রায় সবকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা, সরকারি কলেজ মোড়, সিএন্ডবি মোড় ও ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বাস ও ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হুট করে এই কর্মসূচি শুরুর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যমতে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই অবরোধের কারণে জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মজিবর রহমান কেবল কৃষক দল নেতাই নন, তিনি বালুয়াডাঙ্গা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং স্থানীয় একটি ইজিবাইক গ্যারেজের মালিক। গত রোববার রাতের ঘটনার পর সংগঠনবিরোধী ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সোমবার তাঁকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাত সাড়ে ৯টায়। একটি হত্যা মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও তদন্তের সূত্রে সিভিল পোশাকে কোতোয়ালি থানায় যান সিআইডির পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান। একই সময়ে ওসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ওসির ঘরের সামনে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে পান মজিবর। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি পরিদর্শক নওয়াবুরকে চড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই রাতেই সিআইডি কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর মজিবরকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তবে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য ভিন্ন। সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম অভিযোগ করেন, মজিবর রহমান অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে, কিন্তু থানা হেফাজতে তাঁকে মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। আদালতে নেওয়ার সময় তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতারা চার দফা দাবি সামনে এনেছেন:
মজিবর রহমানের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবীর দ্রুত অপসারণ।
সিআইডি পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
থানা হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন। অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম। তিনি জানান, থানায় পর্যাপ্ত লোকজনের উপস্থিতি ছিল এবং নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়; তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য